সোমবার, অক্টোবর ২৩, ২০১৭
হোম > বিষয়ভিত্তিক সংবাদ > আর্টিকেল ১৯-এর ফোকাল পয়েন্টস নির্বাচন

আর্টিকেল ১৯-এর ফোকাল পয়েন্টস নির্বাচন

আর্টিকেল ১৯-এর অন্যান্য প্রকল্পের মত ‘রাইটিং রংস এগেইন্সট উইমেন জার্নালিস্ট’ প্রকল্পটিও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প। যা কর্মক্ষেত্রে নারী সাংবাদিকদের বৈষম্য এবং লিঙ্গ সংবেদনশীলতা বিষয়ে কাজ করছে। এ লক্ষ্যে আর্টিকেল ১৯ সারা দেশে নারী সাংবাদিকদের বিভিন্ন ধরণের বৈষম্য, সমস্যা, সুবিধা-অসুবিধা এবং লিঙ্গ সংবেদনশীলতা বিষয়ে জানার জন্য ১২ জন ফোকাল পয়েন্ট নির্বাচন করেন। এর মধ্যে দশজন নারী সাংবাদিক এবং দুইজন পুরুষ সাংবাদিক। গত ১২ জুলাই ২০১৪ তারিখে আর্টিকেল ১৯-এর কার্যালয়ের কনফারেন্স রুমে বাংলাদেশ ও দক্ষিণ এশিয়ার পরিচালক তাহমিনা রহমানের উপস্থিতিতে ফোকাল পয়েন্ট নির্বাচিত হয়।
এ সময় উপস্থিত ফোকাল পয়েন্টরা (সাংবাদিকরা) তাদের নিজ নিজ অভিজ্ঞতার কথা জানান। তারা বলেন, “কর্মক্ষেত্রে নারী সাংবাদিকরা প্রায়ই বৈষম্য এবং লিঙ্গ সহিংসতার শিকার হন। কিন্ত এগুলো বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই চাপা থাকে। আর্টিকেল ১৯ এগুলো বের করে আনার লক্ষ্যে কাজ করছে এটা নি:সন্দেহে অভিনন্দনযোগ্য। এতে যেমন নারী সাংবাদিকরা মন খুলে কথা বলতে পারবেন, তেমনি তাদের আত্মবিশ্বাসও বেড়ে যাবে বহুগুণ।”
উইমেন চ্যাপ্টার (অনলাইন পত্রিকা)-এর সম্পাদক সুপ্রীতি ধর বলেন, “আমার এক নারী সহকর্মী তার মাতৃত্বকালীন ছুটি শেষে তার পুরানো অফিসে পুনরায় যোগ দেন। একদিন তিনি বাসা থেকে তার অফিসে ফোন করে বলেন, পারিবারিক সমস্যা থাকায় অফিস যেতে তার খানিকটা দেরি হবে। এ কথা শুনে তার পুরুষ সহকর্মীরা সে বিষয়ে নানা কথা বলতে শুরু করেন। ঐ সময় আমি তাদের পাশেই ছিলাম। তারা ঐ বিষয়ে এমন কিছু কথা বলেন যা আমার কাছে লিঙ্গ সংবেদনশীল বলে মনে হয়েছে। আমি তাদের কিছু না বলে ততক্ষণাত আমার উইমেন চ্যাপ্টারে এ বিষয়ে একটি লেখা লিখি। কিছুক্ষণ পরে লেখাটি পুরুষ সহকর্মীদের চোখে পড়লে তারা তাদের ভুল বুঝতে পারেন।”

news41
তাহমিনা রহমান বলেন, “কর্মক্ষেত্রে নারী সাংবাদিকদের এরকম নানা ধরণের বৈষম্য এবং লিঙ্গ সংবেদনশীলতার বিষয়গুলো আপনাদের ঠিকভাবে তুলে আনতে হবে। এতে আপনাদেরই ভালো হবে। নইলে আপনারা এগিয়ে যেতে পারবেন না। এ বিষয়ে আমরা আপনাদের পাশে আছি।” তিনি ফোকাল পয়েন্টদের কাজ এবং দায়িত্ব সম্পর্কেও অবহিত করেন।
ফোকাল পয়েন্টদের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত কাজের চুক্তি নির্ধারিত হয়। প্রত্যেক ফোকাল পয়েন্ট তাদের সুবিধা অনুযায়ী চার/পাঁচটি জেলাকে কাজের জায়গা হিসেবে বেছে নেন। এসব জেলার নারী সাংবাদিকদের মনিটরিং করে প্রত্যেক মাসের শেষের দিকে তাদেরকে রিপোর্ট পাঠানোর কথা বলা হয়। এর সঙ্গে কেস হতে পারে এমন ঘটনাও তাদেরকে নির্ধারিত ফরমেট পূরণ করে পাঠাতে বলা হয়। এই নেটওয়র্কের আওতায় ৪৬টি জেলা অন্তর্ভূক্ত হয়। বাকিগুলো পরবর্তীতে যুক্ত করার সিদ্ধান্ত হয়। এতে দেশের নারী সাংবাদিকদের কাজ এবং তাদের নানা ধরণের সমস্যা জানা যাবে বলে উপস্থিত সকলেই মনে করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *