বৃহস্পতিবার, জুলাই ২০, ২০১৭
হোম > বিষয়ভিত্তিক সংবাদ > এসডিজির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে মুক্ত গণমাধ্যম!

এসডিজির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে মুক্ত গণমাধ্যম!

জাতিসংঘের প্রতিষ্ঠার শুরুতইে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও তথ্য অধিকার স্বীকৃতি পায় মৌলিক মানবাধিকার হিসেবে। সার্বজনীন মানবাধিকার সনদে আর্টিকেল ১৯ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘প্রত্যেক মানুষেরই মতামত পোষণ ও প্রকাশ করার অধিকার রয়েছে।

‘স্বাধীনভাবে মতামত পোষণ করা, যে কোনও উপায়ে ও রাষ্ট্রীয় সীমানা নির্বিশেষে তথ্য ও মতামত সন্ধান করা, গ্রহণ করা ও জানার স্বাধীনতা এর অধিকারভূক্ত’। ২০১৫ সালে গৃহীত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) আলোকে পরবর্তী বছরের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল – ‘Access to Information and Fundamental Freedoms – This Is Your Right!’। আর এসডিজির ১৬ পয়েন্ট ১০ লক্ষ্যমাত্রায়, ‘ টেকসই উন্নয়নে সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও সবার জন্য ন্যায়বিচার প্রাপ্তির নিশ্চয়তার কথা বলা হয়েছে। মুক্ত গণমাধ্যম, তথ্য অধিকার ও টেকসই উন্নয়নকে একীভূত করেছে মুক্ত ও স্বাধীন সাংবাদিকতা। মানুষের মৌলিক মানবাধিকার ও এসডিজি অর্জনে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা তাই অত্যন্ত জরুরী।’

এ বিষয়গুলোকে সামনে রেখে গত ২৮ সেপ্টেম্বর,২০১৬ রাজধানীর একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত হয় ” আমাদের রয়েছে জানার অধিকার, তথ্যের অধিকার: শঙ্কিত গণমাধ্যম ও টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা” শীর্ষক কর্মশালা ।

এ আয়োজনের মূল প্রতিপাদ্য ছিল টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রায় পৌছাতে তথ্য অধিকারের ভূমিকা। আর্টিকেল ১৯-এর বাংলাদেশ ও দক্ষিণ এশিয়ার পরিচালক তাহমিনা রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থতি ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার অ্যালিসন ব্লেইক। এছাড়া আয়োজনে আরো উপস্থিত ছিলেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের কমিশনার মেঘনা গুহঠাকুরতা, প্রথম আলোর যুগ্ম সম্পাদক সোহরাব হোসেন, সাউথ এশিয়া ইনিস্টিটিউট অব অ্যাডভান্সড লিগ্যাল এন্ড হিউম্যান রাইটস স্টাডিস (এসএআইএলএস) এর নির্বাহী পরিচালক মাঞ্জুর হাসান প্রমুখ।

অনুষ্ঠানের উদ্ধোধনী বক্তব্যে আর্টিকেল ১৯-এর বাংলাদেশ ও দক্ষিণ এশিয়ার পরিচালক তাহমিনা রহমান এশিয়া ও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তথ্য অধিকার সর্ম্পকিত সার্বিক পরিস্থিতির তথ্যসারণী তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এশিয়ার ৯৬ শতাংশ দেশ তথ্য অধিকার আইনের আওতাভূক্ত। এর মধ্যে ১৪টি রাষ্ট্রে এরই মধ্যে তথ্য অধিকার আইন বাস্তবায়ন হয়েছে, ১২টি রাষ্ট্র তথ্য অধিকার আইনে পরিণত করার প্রক্রিয়ায় আছে, ১৪টি রাষ্ট্র এরই মধ্যে তথ্য অধিকারের বিষয়টি তাদের সংবিধানের অন্তভূক্ত করেছে। এ সময় তিনি আরো বলেন, এ যুগে শুধুমাত্র তথ্য অধিকারকে ঘিরে নয়, এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সাংবাদিক ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়গুলো, যা সরাসরি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গে সম্পৃক্ত। প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার অ্যালিসন ব্লেইক বলেন, আইনের শাসন ছাড়া অর্থনৈতিক উন্নয়ন টেকসই হবে না। বর্তমান সময়ে প্রভাবমুক্ত মতামত চর্চায় আইনগত বিষয় গুরুত্বপূণ বলেও উল্লেখ করেন তিনি। সরকারের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গে কিভাবে এসডিজির ১৬ অনুচ্ছেদের সম্পর্কিত এর বিষদ ব্যাখ্যা দেন এসএআইএলএস এর নির্বাহী পরিচালক মাঞ্জুর হাসান। তিনি বলেন, ২০০৯ সালে গৃহীত তথ্য অধিকার আইন দেশের সুশীল সমাজ ও গণমাধ্যমের দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টার ফসল। তবে দেশে মত প্রকাশ পরিস্থিতি খারাপ হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এ সময় প্রথম আলোর যুগ্ম সম্পাদক সোহরাব হাসান বলেন, তথ্য অধিকারের পূর্বশর্ত গণতন্ত্র, আইনের শাসন এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা। সরকারের হস্তক্ষেপ ও জঙ্গিবাদের উথ্থানের ফলে বাংলাদেশ এ স্বাধীনতা অনেকটাই সংকুচিত হয়ে পড়েছে। অনুষ্ঠানে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের কমিশনার অধ্যাপক মেঘনা গুহঠাকুরতা বলেন, বাংলাদেশে মানবাধিকার রক্ষায় আইনরে দুর্বলতা থাকলেও তথ্য অধিকার আইন শক্তিশালী। সাংবাদিকেরা এ আইনটিকে তথ্য জানার মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করে প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে পারে।

দু’দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত এ কর্মশালায় তথ্য অধিকার সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয়ে আরো উপস্থিত ছিলেন দেশ-বিদেশের খ্যাতনামা অধিকারকর্মী, সাংবাদিক ও আরর্টিকেল-১৯ এর স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন পার্টনারসমূহ।

এহতেশাম ইমাম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *