মঙ্গলবার, জুন ২৭, ২০১৭
হোম > অধিকার লঙ্ঘন > নববর্ষে যৌন হয়রানীর শিকার নারী

নববর্ষে যৌন হয়রানীর শিকার নারী

২০১৫’র ১লা বৈশাখের দিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় যৌন হয়রানীর শিকার হয়েছেন বেশ কয়েকজন নারী। নিপীড়নকারীদের ঠেকাতে গিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র ইউনিয়ন শাখার সভাপতি লিটন নন্দীর হাত ভেঙেছে। অভিযোগ উঠেছে, পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরকে এই ঘটনা জানানো হলেও তাঁরা যথাসময়ে ব্যবস্থা নেননি। ছাত্র ইউনিয়নের সহ-সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘সোহরাওয়ার্দী গেটে যখন এই ঘটনা ঘটছিল, তখন সেখানে মাত্র দু’জন পুলিশ ছিল। টিএসসির ডাচ-বাংলা বুথের দিকে বেশ কয়েকজন পুলিশ ছিল। আমরা তাদের এগিয়ে আসতে বললে তারা তখন রাজি হয়নি। ঘটনাস্থল থেকে আমরা দু’জনকে ধরিয়ে দিয়েছিলাম। কিন্ত পুলিশ পরে তাদের ছেড়ে দিয়েছে বলে জানতে পারি।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক ছাত্র অভিযোগ করেছেন, সোহরাওয়ার্দী গেট এবং এর ভেতরে প্রায়ই এ ধরনের ঘটনা ঘটে। এছাড়া সন্ধ্যার পর ক্যাম্পাসের বিভিন্ন জায়গায়ও প্রথম বর্ষের কিছু ছাত্র নিয়মিতই নারীদের লাঞ্ছিত করে। এসব ব্যাপারে প্রশাসনের ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদেরও এসব প্রতিরোধে এগিয়ে আসা উচিত।

ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর আমজাদ আলী বলেন, ‘ছাত্র ইউনিয়নের নেতারা আমাকে খবর দেওয়ার পরপরই আমি পুলিশকে সোহরাওয়ার্দী গেট বন্ধ করতে এবং এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে বলেছি। পরে পুলিশ সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেছে বলে আমি জেনেছি। আমরা পুলিশকে বলেছি সিসি টিভির ফুটেজ দেখে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে।’

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (গণমাধ্যম ও জনসংযোগ) বিভাগের জাহাঙ্গীর আলম সরকার  বলেন, পুলিশ এ ব্যাপারে বিধিমতো ব্যবস্থা নেবে।

নববর্ষের দিনে নারীদের লাঞ্ছিত করার প্রতিবাদে পুলিশের জন্য চুড়ি, শাড়ি ও ললিপপ নিয়ে শাহবাগ থানা ঘেরাও করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের শিক্ষার্থীরা। মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা ‘ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা চাই’, ‘এই নরপশুদের শাস্তি চাই’, ‘দায়িত্বে অবহেলাকারী পুলিশের বিচার চাই’, ‘পশুত্ব ও পুরুষত্ব এক নয়’-এসব লেখা প্ল্যাকার্ড বহন করেন। ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন শেষে শিক্ষার্থীরা হাতে শাড়ি, চুড়ি ও ললিপপ নিয়ে শাহবাগ থানা ঘেরাও করেন।

বর্ষবরণের দিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে যৌন নির্যাতনের প্রতিবাদে গান, কবিতা আবৃত্তি ও আলোচনার মধ্য দিয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট। এ যৌন সন্ত্রাসের সাথে জড়িতদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করা হয়। পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতিতে কীভাবে নারীর ওপর যৌন নির্যাতন হলো প্রশ্ন করে বক্তারা বলেন ঘটনার সময় দায়িত্বরত পুলিশকে ডেকে আনা যায়নি। বরঞ্চ পুলিশ সদস্যরা নির্বিকার বসে ঘটনা দেখছিল। এই ঘটনার প্রতিবাদে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচি ঘোষণা করে। টিএসসির যৌন নির্যাতনের ঘটনাটি কোন বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। দেশে ইভটিজিং এর ঘটনা প্রতিদিনই ঘটছে। এটা তারই ধারাবাহিকতা মাত্র। মানুষের মধ্যে এ বিষয়ে সচেতনতা তৈরি করার প্রয়োজন রয়েছে।

একজন নারীকে শুধু ভোগের চোখে নয় একজন মানুষ হিসেবে ভাবতে হবে । নারীর প্রাপ্য সম্মান দেয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে হবে। স্কুলশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি পরিবার সমাজ থেকেও নৈতিক শিক্ষার বিষয়ে জোর দেয়ার প্রয়োজন রয়েছে। আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের আরো বেশী সাবধানতা অবলম্বন এবং দায়িত্ব পালনে সচেষ্ট হতে হবে। সমাজের সকলের সম্মিলিত চেষ্টায় বদলে যেতে পারে দৃশ্যপট। বর্তমানের নারীর জন্য অনিরাপদ একটি পরিবেশ বিরাজ করছে এর উত্তরণে যার যার অবস্থান থেকেই আমাদের সকলকে ঐকান্তিক প্রচেষ্টা চালাতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *