সোমবার, অক্টোবর ২৩, ২০১৭
হোম > বিষয়ভিত্তিক সংবাদ > ছাত্রলীগের সেই দুই নেতা কারাগারেসম্প্রচার নীতিমালায় নারী সাংবাদিকদের সুরক্ষার বিষয়টি থাকতে হবে

ছাত্রলীগের সেই দুই নেতা কারাগারেসম্প্রচার নীতিমালায় নারী সাংবাদিকদের সুরক্ষার বিষয়টি থাকতে হবে

বাংলাদেশে একটি পূর্ণাঙ্গ গণমাধ্যম সম্প্রচার নীতিমালা চালুর লক্ষ্যে তথ্য মন্ত্রণালয় আর্টিকেল ১৯সহ বিভিন্ন সাংবাদিক, গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব ও শিক্ষকদের সম্পৃক্ত করে। কিছুদিন আগে মন্ত্রিসভায় যে খসড়া সম্প্রচার নীতিমালা অনুমোদিত হয় তাতে কিছু সুপারিশ ঐসব সদস্যদের অবগত না করেই অন্তর্ভুক্ত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তাই সম্প্রচার নীতিমালা নিয়ে একটি চুলচেরা পর্যালোচনার তাগিদেই গত ২৪ আগষ্ট সেগুনবাগিচার সিরডাপ মিলনায়তনে আর্টিকেল ১৯-এর  উদ্যোগে একটি গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

এতে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল, বাংলাদেশ লিগাল এইড এন্ড সার্ভিস ট্রাস্ট, মাসলাইন মিডিয়া সেন্টার এবং বাংলাদেশ নারী সাংবাদিক কেন্দ্র যৌথ উদ্যোক্তা ছিল। আর্টিকেল ১৯ বাংলাদেশ ও দক্ষিণ এশিয়ার পরিচালক তাহমিনা রহমানের প্রাণবন্ত সঞ্চালনায় সাংবাদিক নেতাসহ বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের কর্তাব্যক্তিরা এতে অংশগ্রহণ করেন।

সম্প্রচার নীতিমালা গঠণের আগে একটি স্বাধীন সম্প্রচার কমিশণ গঠনের দাবি, সম্প্রচার নীতিমালার কিছু অনুচ্ছেদ যেমন;  সম্পাদকীয় নীতি ও বিশেষ বাহিনী সম্পৃক্ত তথ্য বা সংবাদ প্রদানের ক্ষেত্রে যে বিধিমালা উল্লেখ করা হয়েছে তার তীব্র  সমালোচনা  করেন আলোচকরা। বৈঠকে সব মিডিয়ার জন্য একটি অভিন্ন নীতিমালার দাবিও জানানো হয়। সম্প্রচার নীতিমালা প্রনয়ণ করার জন্য একটি সম্প্রচার কমিশন গঠণ করার কথা। কিন্ত কমিশণ গঠণের আগে নীতিমালা গঠণকে অনেকে সমালোচনা করেন।

news2
“সম্প্রচার নীতিমালায় নারী ও শিশু সম্পর্কিত সংবাদ, অনুষ্ঠান এবং বিজ্ঞাপন প্রচারের ক্ষেত্রে যে বিধিমালার সুপারিশ করা হয় তা অপর্যাপ্ত বলে” অভিহিত করেন বাংলাদেশ নারী সাংবাদিক কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক পারভীন সুলতানা ঝুমা। তিনি সম্প্রচার নীতিমালায় নারী সাংবাদিকদের অবস্থানকে তিনভাগে ভাগ করেন। প্রথমত মিডিয়া হাউসগুলোতে নারী সাংবাদিকদের সুরক্ষা, দ্বিতীয়ত নারী সম্পর্কিত সংবাদ ও অনুষ্ঠান প্রচার এবং তৃতীয়ত বিজ্ঞাপনে নারীর উপস্থিতি। তিনি আরো বলেন, “খসড়া নীতিমালায় মিডিয়া হাউসগুলোতে সাংবাদিকদের চাকুরি ও অন্যান্য সুযোগসুবিধা নিশ্চয়তার উল্লেখ নেই। সে হিসেবে  কর্মরত নারী সাংবাদিকদের কথাও কিছু বলা হয়নি।” তাই সম্প্রচার নীতিমালায় নারী সাংবাদিকদের জন্য পৃথকভাবে সুরক্ষা সংক্রান্ত বিধিমালা রাখার দাবি জানানো হয় উক্ত বৈঠকে।
প্রত্যেক মিডিয়া হাউজে এ নীতিমালার জন্য একটি কমিটি গঠণ করার কথা বলা হয়। কিন্ত আর্টিকেল ১৯ গত ২০১২ সালে ১৯টি মিডিয়া হাউসে জরিপ চালিয়ে দেখেছে যে, একটি হাউসও এ কমিটি গঠণ করেননি। নীতি নির্ধারকদের সাক্ষাতকার নিয়ে আর্টিকেল ১৯ জানতে পারে, এই নির্দেশনার বিষয়ে অনেক প্রভাবশালী সম্পাদকরাও পুরোপুরি অজ্ঞ। ২০১৩ সালে সেই জরিপের ফলোআপ করেও দেখা গেছে তাদের কেউই ঐ কমিটি গঠণ করেননি।

স্বাধীন সম্প্রচার কমিশনে নারী সাংবাদিকদের নিয়ে কাজ করে এমন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি রাখার দাবিও জানানো হয়। বাংলাদেশে বর্তমানে মিডিয়ায় নারীর উপস্থিতি সংখ্যাগতভাবে শতকরা ১০০ ভাগের কম হলেও গুণগত মানে নারী সাংবাদিকদের অবস্থান অত্যন্ত সক্রিয়। এছাড়া দেশের অর্ধেক জনসংখ্যাকে উহ্য রেখে শুধু সম্প্রচার নীতিমালা কেন, কোনো নীতিমালাই গ্রহণীয় হতে পারে না বলে আলোচকরা অভিমত ব্যক্ত করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *