শনিবার, সেপ্টেম্বর ২৩, ২০১৭
হোম > কর্মক্ষেত্রে প্রতিকূলতা > ঠাকুরগাঁও প্রেসক্লাব থেকে বহিষ্কার হবার কারণে সংবাদ সংগ্রহের ক্ষেত্রেও তারা বাঁধাগ্রস্ত হচ্ছেন

ঠাকুরগাঁও প্রেসক্লাব থেকে বহিষ্কার হবার কারণে সংবাদ সংগ্রহের ক্ষেত্রেও তারা বাঁধাগ্রস্ত হচ্ছেন

গত ৫ ডিসেম্বর ২০১৪ তারিখে ঠাকুরগাঁও প্রেসক্লাব থেকে নার্গিস চৌধুরী ও আঞ্জুমান আরা বন্যাসহ আরও চার সাংবাদিককে বহিষ্কার করা হয়েছে। এ ঘটনায় নার্গিস চৌধুরী হাইকোর্ট থেকে ঠাকুরগাঁও প্রেসক্লাব বরাবর লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছেন। বর্তমানে তিনি মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

ঠাকুরগাঁও প্রেসক্লাব থেকে বহিষ্কার হবার কারণে সংবাদ সংগ্রহের ক্ষেত্রেও তারা বাঁধাগ্রস্ত হচ্ছেন। প্রেসক্লাবের সাথে যোগাযোগ না থাকায় তিনি অনেক জায়গা থেকে সংবাদ সংগ্রহ করতে পারছেন না। এ বিষয়ে ৬ই ডিসেম্বর ২০১৪ইং তারিখে আঞ্জুমান আরা বন্যা দৈনিক যুগান্তরের মাধ্যমে প্রতিবাদ জানান। এতেও কোন প্রতিকার না হওয়ায় বন্যা ঠাকুরগাঁও প্রেসক্লাব বরাবর লিগ্যাল নোটিশ পাঠান। বর্তমানে তিনি ঐ প্রেসক্লাবে তার সদস্যপদ বহাল রাখার দাবীতে মামলা করেছেন।

এই সম্পর্কে তারা (নার্গিস চৌধুরী ও আঞ্জুমান আরা বন্যা) বলেন, নির্বাচনে বিজয়ী সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের প্যানেলে আমরা না থাকায় আমাদের সাথে ভোট পরবর্তী সময়ে অযথা সময়ে অসময়ে বিভিন্নভাবে অনিয়মতান্ত্রিকভাবে চিঠিপত্র দেয়। কিন্তু ওইসব চিঠিপত্র কাগজে কলমে আমাদের পাঠানো হলেও অজ্ঞাতকারনে আমাদের হাতে পৌঁছায় না। ফলে গোপনে গোপনে আমাদের বিরুদ্ধে সভাপতি ও সম্পাদক বিভিন্ন প্রকার অনিয়মতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত নেয়। যা মূলত: আমাদের অজ্ঞাতসারেই সম্পন্ন হয়। আমরা বৈধ সাধারণ সভা ডাকার জন্য ১৬ জন সদস্য স্বাক্ষরিত রেজিঃ যোগে ১৬ নভেম্বর চিঠি দেই। চিঠির কোন উত্তর প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সম্পাদক না দিলে আমরা লিগ্যাল নোটিশ দেই। তারপরেও সভাপতি ও সম্পাদক কোন সাধারণ সভায় আমাদের ডাকেননি।

গত ৩রা ডিসেম্বর যুগান্তর ও চ্যানেল আই’র সাংবাদিক এ টি এম জোহার স্ত্রীকে লিগ্যাল  নোটিশে স্বাক্ষর দেওয়ার কারণে স্থানীয় এল.এস.ডি গুদামে অপমানিত ও লাঞ্ছিত করেন। এ ঘটনায় প্রেসক্লাবের সভাপতি আবু তোরাব মানিক ও তার লোকজনকে আসামী করে এ টি এম সামসুজ্জোহা বাবলু মামলা করেন। পরবর্তীতে থানা মামলা গ্রহণ না করায় চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি করা হয়। অতঃপর দুই মামলার সূত্রপাত ধরে ৫ জন সাংবাদিককে প্রেসক্লাবের সদস্যপদ বাতিল করেন।

প্রেসক্লাবের আজীবন সদস্য ৩৮ বছর ধরে সাংবাদিকতা পেশায় নিয়োজিত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও বর্তমান নির্বাহী কমিটির সদস্য মোঃ এনামুল হককে প্রেসক্লাবের সদস্যপদ বাতিল করায় তিনিও মামলা করেন যা ঠাকুরগাঁও চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বর্তমানে বিচারাধীন। প্রেসক্লাবের অপর সদস্য এ.টি.এম সামসুজ্জোহা মামলা করার কারণে তার সদস্যপদও বাতিল করা হয় অথচ মামলা বিচারাধীন।

এই বছর ১১ জানুয়ারি মামলায় আর্থিক সহায়তা চেয়ে নার্গিস চৌধুরী ও আঞ্জুমান আরা বন্যা আর্টিকেল ১৯ বরাবর আবেদন করেন। আর্টিকেল ১৯ মামলাটির জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে। ইতিমধ্যে এ বিষয়ে দৃশ্যমান অগ্রগতি সাধিত হয়েছে।

আর্টিকেল ১৯ কর্মক্ষেত্রে অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে সচেষ্ট রয়েছে। নারীর কর্মক্ষেত্র হোক তাদের জন্য নিরাপদ, সমস্যামুক্ত ও পরিবেশ হোক সহযোগিতামূলক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *