মঙ্গলবার, জুন ২৭, ২০১৭
হোম > সম্পাদকীয় > দক্ষতা, সাহসিকতা ও ধৈর্য নিয়ে কাজ করেই নারী সাংবাদিকদের প্রতিষ্ঠিত হতে হবে।

দক্ষতা, সাহসিকতা ও ধৈর্য নিয়ে কাজ করেই নারী সাংবাদিকদের প্রতিষ্ঠিত হতে হবে।

নিঃসন্দেহে সাংবাদিকতা একটি চ্যালেঞ্জিং পেশা। নারী পুরুষ উভয়কেই এই বিষয়টি মাথায় রেখেই কাজ করতে হয়। পুরুষদের জন্য বিষয়টি মোকাবেলা করা সহজ হলেও তৃতীয় বিশ্বের একটি দেশ হিসেবে বাংলাদেশের নারীদের জন্য বিষয়টি সহজ নয়। সাংবাদিকতায় এমন অনেক সমস্যা বর্তমান যা একান্তই নারী সাংবাদিকদের মোকাবেলা করতে হয়। কিছুদিন আগেও কোথাও কোথাও আইন করে নারীর প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়েছিল। নৈতিকতার প্রশ্ন তুলে নারীদের নিরুৎসাহিত করা হতো। এসব বাঁধা সত্ত্বেও ১৯৮০ এর দশকে কিংবা তার কিছু সময় পূর্বে হতেই নারীদের সম্পাদক, প্রতিবেদক, ফিচার লেখক হিসেবে কাজ করতে দেখা গেছে। যা ছিল আশাব্যঞ্জক। সেই পথ ধরেই কন্টাকীর্ন পতে বাঁধা বিপত্তি মোকাবেলা করে এগিয়ে চলেছেন আমাদের দেশের নারী সাংবাদিকরা।

বাংলাদেশের নারী সাংবাদিকদের প্রতি বৈষম্য, নির্যাতন এবং লিঙ্গ সংবেদনশীলতার প্রতিকার এবং প্রতিরোধের জন্য আর্টিকেল ১৯ “রাইটিংস রংস এগেইন্টস উইমেন জার্নালিস্ট” প্রকল্পটির কাজ শুরু করে। এই প্রকল্পের অংশ হিসেবে নারী সাংবাদিকরা তাদের বিভিন্ন সমস্যার কথা আর্টিকেল ১৯-কে জানান। সেই প্রেক্ষিতে সারাদেশের নারী সাংবাদিকদের মধ্য থেকে আর্টিকেল ১৯ –এ মোট ২৯টি অভিযোগ এসেছে। আর্টিকেল ১৯ মনিটরিং এবং ট্র্যাকিং টুল ব্যবহার করে এসব অভিযোগ সংগ্রহ এবং সহজ সমাধানের বিষয়ে কাজ করেছে। মূলত ফোকাল পয়েন্টদের মাধ্যমে এসব অভিযোগ সংগ্রহ করা হয়। দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ৫৬টি জেলায় তারা কাজ করে। এসব ফোকাল পয়েন্ট নারী সাংবাদিকদের পেশাজীবনে কি ধরনের বৈষম্য, বাঁধা, বাক স্বাধীনতা কিংবা লিঙ্গ বৈষম্যের সম্মুখীন হয়েছেন তাই তুলে ধরেছেন। এতে সারা দেশের নারী সাংবাদিকদের সাথে আর্টিকেল ১৯ –এর যেমন একটি ভালো নেটওয়ার্ক গড়ে উঠেছে তেমনি তারা তাদের সমস্যার কথা জানিয়ে স্বস্তি ও সাহস পেয়েছেন। জানিয়ে রাখা প্রয়োজন প্রাপ্ত অভিযোগ নিয়ে আর্টিকেল ১৯ কাজ শুরু করছে। ইতিমধ্যে ১২টি অভিযোগের আইনি মতামত নেওয়া হয়েছে এবং ১১টি অভিযোগের ভিত্তিতে কোর্টে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

আর্টিকেল ১৯ সরকার, মিডিয়া হাউজ, আইনজীবী এবং অভিজ্ঞদের সঙ্গে উপরোক্ত বিষয়ে আলোচনা করেছে। আমি ব্যক্তিগতভাবেও প্রয়োজনীয় কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি ফলে অতি অল্প সময়ে সারা দেশের বহু নারী সাংবাদিক এর সুফল পেয়েছেন এবং প্রকল্পটি সফলভাবে এগিয়ে চলেছে। ইতিমধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নারী সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। এতে তারা তাদের অধিকার এবং বৈষম্যের বিষয়গুলো সম্পর্কে সম্যক ধারনা পেয়েছেন, পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রে নিজেকে কিভাবে আরও দক্ষ ও যোগ্যতার নিরিখে তৈরি করা যায় সে বিষয়ে সচেতন হয়েছেন।

পরিশেষে বলতে চাই কর্মক্ষেত্রে বাঁধা বিপত্তি আসলে তা সাহসের সাথে মোকাবেলা করতে হবে। চাকুরী ছেড়ে দেওয়া, অন্য পত্রিকায় চলে যাওয়া কোন সমাধান নয় বরং সবার সাথে পাল্লা দিয়েই টিকে থাকতে হবে। প্রতিটি ক্ষেত্রে যোগ্যতা অধ্যবসায়ের পরীক্ষা দিতে হবে! মনে রাখতে হবে অধিকার কেউ কাউকে দেয় না, তা আদায় করে নিতে হয়। মেধা, দক্ষতা, যোগ্যতা সর্বোপরি মানসম্পন্ন কাজের মাধ্যমেই সকলের আস্থা অর্জনের মধ্য দিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। আর্টিকেল ১৯ সব সময় সাহসী নারীদের পাশে আছে।

 

তাহমিনা রহমান

পরিচালক
আর্টিকেল ১৯,
বাংলাদেশ ও দক্ষিন এশিয়া
৩০২,শ্যামলী ,ঢাকা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *