মঙ্গলবার, জুন ২৭, ২০১৭
হোম > অধিকার লঙ্ঘন > কর্মক্ষেত্রে অধিকার লঙ্ঘন

কর্মক্ষেত্রে অধিকার লঙ্ঘন

দিলরুবা খাতুন (৩৪) বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থায় (বাসস) মেহেরপুর জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেন। এর আগে তিনি দৈনিক যুগান্তর পত্রিকায় গাংনী উপজেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করতেন এবং প্রতি মাসে নিয়মিত বেতন ভাতা পেতেন। ২০০৯ সালের দিকে দৈনিক সকালের খবর প্রকাশের আগে দিলরুবা সেখানে মেহেরপুর জেলা প্রতিনিধি হিসেবে প্রাথমিকভাবে নিয়োগ পান এবং কাজ শুরু করেন। এভাবে তিনি দেড় বছর কাজ করার পর পত্রিকা প্রকাশের আগে ২০১০ সালের আগস্ট মাসে তিনি তার কাজ ছেড়ে দিতে বাধ্য হন। কারণ খুবই সাধারণ!! মেহেরপুর জেলার সংবাদপত্রের এজেন্ট ও সংবাদপত্র বহনকারী গাড়ির মালিক বেঁকে বসেন। তার দাবী ছিল “হয় তাকে পত্রিকাটির জেলা প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগ দিতে হবে, নয়ত সেখানে ঐ পত্রিকা বিক্রি হবে না।” এতে দিলরুবার দেড় বছরের পরিশ্রম বৃথা যায় এবং তিনি যুগান্তর পত্রিকার উপজেলা (গাংনি) প্রতিনিধির পদসহ সকালের খবরের প্রতিনিধির পদটিও হারান। এভাবেই তিনি নারী হিসেবে তার কর্মক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার হন। দিলরুবা জানান, “জেলা শহরগুলোতে এমন অনেকেই আছেন যারা প্রভাব খাটিয়ে তাদের ইচ্ছেমত লোকজনকে পত্রিকার সাংবাদিক হতে কর্তৃপক্ষকে বাধ্য করান। সেক্ষেত্রে কেউ নারী হলে তাদের কাজ আরও সহজ হয়। মফস্বলে সাংবাদিকতা করতে হলে আমরা হরহামেশা এরকম বৈষম্য কিংবা নানা ধরণের সমস্যার সম্মুখীন হই। দেখা যায়, এসব বিষয়ে কেউ কিছু করেন না এবং এসব দেখে মনে হয় এ বিষয়ে কারো কিছু করার নেই।”

দিলরুবা ঠিক বলেছেন। নারীদের প্রতি সহজেই বৈষম্য করা যায়। তাদের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা যায়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত যারা লড়াইয়ে টিকে যান তারা শত বৈষম্যের শিকার হলেও নিজের জায়গা পাকাপোক্ত করে নিতে পারেন। দিলরুবাও তার নিজের জায়গা করে নিয়েছেন। তিনি বলেন, “নারীদের নিজের পায়ে দাঁড়াতে হলে নিজের কাজটি সম্পর্কে জানতে হবে। প্রতিকূলতাকে পায়ে দলে এগিয়ে যাবার মানসিক শক্তি রাখতে হবে নিজের মধ্যে- তাহলেই হয়তো শত বৈষম্যের মাঝেও নিজেকে টিকিয়ে রাখা সম্ভব।”

দিলরুবার মত এরকম আরও অনেক ঘটনায় দেখা যায় জেলা বা উপজেলা পর্যায়ে নারী সংবাদ কর্মীরা নিয়মিতই নানা রকম বৈষম্যের শিকার হন এবং অকালেই এ পেশা থেকে ঝরে যান। এ বিষয়ে সকালের খবরের ন্যাশনাল ডেস্কের ইন-চার্জ মুকুল শাহরিয়ার বলেন, “আমি সকালের খবরে যোগ (২০১১ সালের মার্চ মাসে) দেওয়ার আগে দিলরুবার ঘটনাটি ঘটেছে। তবে এ বিষয়ে আমার বক্তব্য হলো আমরা যখন কোন প্রতিনিধি নিয়োগ দেই তখন তিনটি বিষয়কে গুরুত্ব দেই। এক. ভালো রিপোর্ট করার ক্ষমতা। দুই. বিজ্ঞাপন যোগার এবং তিন. ঐ এলাকায় পত্রিকার সার্কুলেশন বৃদ্ধির ক্ষমতা। এর মধ্যে কমপক্ষে দু’টি বিষয় থাকলেই তাকে আমরা প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগ দেই। তবে কাউকে হঠাৎ করে বাদ দেওয়া হয় না। এর আগে তাকে নানাভাবে পরামর্শ ও সুযোগ দেওয়া হয়। নারী হিসেবে কাউকে বৈষম্য করা হয় না।”

তারপরেও বলা যায় নারী সাংবাদিকরা অনেক ক্ষেত্রে শুধু নারী হিসেবে বৈষম্যের শিকার হন। আমাদের এ সমস্যা থেকে বেড়িয়ে আসতে হলে অবশ্যই দক্ষতার সাথে যোগ্যতা অর্জন করতে হবে। পেশার প্রতি অনুগত থাকতে হবে। এমনটিই মনে করছেন অভিজ্ঞরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *