সোমবার, অক্টোবর ২৩, ২০১৭
হোম > সম্পাদকীয় > নারী সাংবাদিকগণ যেভাবে নিজেদের মন মনন এবং মেধা দিয়ে এই চ্যালেঞ্জিং ক্ষেত্রটিতে কাজ করে যাচ্ছেন তাতে আমরা আশাবাদী হতে পারি

নারী সাংবাদিকগণ যেভাবে নিজেদের মন মনন এবং মেধা দিয়ে এই চ্যালেঞ্জিং ক্ষেত্রটিতে কাজ করে যাচ্ছেন তাতে আমরা আশাবাদী হতে পারি

বাংলাদেশের নারী সাংবাদিকদের প্রতি বৈষম্য, নির্যাতন এবং লিঙ্গ সংবেদনশীলতার প্রতিকার এবং প্রতিরোধের জন্য আর্টিকেল ১৯ কাজ করছে। আমরা আনন্দিত যে ইতিমধ্যে আমাদের সাথে যুক্ত হয়েছে দেশের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে থাকা নারী সাংবাদিকবৃন্দ। আমরা সকলকে সাথে নিয়ে একটি মিথষ্ক্রিয়ার মাধ্যমে কার্যক্রম সফল করে তুলতে চাই যেখানে একজন নারী সাংবাদিক কোন ধরণের বৈষম্য ছাড়াই স্বাধীনভাবে তার কাজ করে যেতে পারবেন এবং কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে এগিয়ে যেতে পারবেন। আর্টিকেল ১৯ তার চলার সেই পথে বন্ধুত্ব এবং সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে চায়- যা তাকে করবে আত্মবিশ্বাসী, নির্ভীক এবং লক্ষ্যে অটল।

নারী সাংবাদিকদের পেশাজীবনের নানা ধরনের বৈষম্য, বাঁধা, বাকস্বাধীনতার সমস্যা কিংবা লিঙ্গ বৈষম্যের সম্মুখীন হচ্ছেন মূলত সেসব নিয়েই আর্টিকেল ১৯ নিরবিচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে সারা দেশের নারী সাংবাদিকদের সাথে আর্টিকেল ১৯’র একটি সুন্দর যোগাযোগ গড়ে উঠেছে। আর্টিকেল ১৯ মনিটরিং এবং ট্র্যাকিং টুল ব্যবহার করে আমরা অভিযোগ সংগ্রহ এবং সহজ সমাধানের বিষয়ে কাজ করে যাচ্ছি। মূলত ফোকাল পয়েন্টদের মাধ্যমে এসব অভিযোগ সংগ্রহ করা হয়। সারা দেশের ৬৪টি জেলার মধ্যে প্রায় ৫৬টি জেলায় আর্টিকেল ১৯ ফোকাল পয়েন্ট সাংবাদিকগণ কাজ করে যাচ্ছেন। আর্টিকেল ১৯ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের নারী সাংবাদিকদের কাছ হতে প্রাপ্ত তথ্যউপাত্ত বিচার বিশ্লেষণ করে নারী সাংবাদিকদের কর্মক্ষেত্রের পরিবেশ পরিবর্তনসহ অন্যান্য বাঁধা-বিপত্তি নিয়ে সরকার, মিডিয়া হাউজ, আইনজীবী এবং অভিজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করেছে এবং সমাধানের জন্য ঐকান্তিক চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।

আর্টিকেল ১৯ কিছুদিন আগেই ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ‘ফ্রিডম অব এক্সপ্রেশন ইন বাংলাদেশ ২০১৪’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে যা ইতিমধ্যে মিডিয়ায় একটি আলোচিত ইস্যু হিসেবে সকলের কাছে প্রশংসিত হয়েছে। দেশের সকল সংবাদপত্র, টিভি চ্যানেলসহ পত্র-পত্রিকায় বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশিত হয়েছে। আমরা সেই প্রতিবেদনে ২০১৪ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশে সাংবাদিক হত্যা, নির্যাতন ও হয়রানির তথ্য তুলে ধরে এর প্রতিকারে সম্ভাব্য সকল প্রকারের ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানিয়েছি।

কিছুদিন আগে ঢাকার টিএসসিতে ঘটে যাওয়া নারী এবং শিশুদের উপর যৌন নির্যাতনের ঘটনাটি আমাদের মানসিক বৈকল্যের প্রমাণ দেয়। মানুষ সম্পর্কে আমাদের নেতিবাচক ধারণর জন্ম দেয়। আমরা এ ঘটনায় দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই এবং ভবিষ্যতে যেন এমন কোন ঘটনা না ঘটে সেজন্যে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যদের প্রতি আরও বেশি দায়িত্বশীলতা আশা করি।

পেশাগত জীবনে নানা ধরনের সমস্যা মোকাবেলা করে নারী সাংবাদিকগণ যেভাবে নিজেদের মন মনন এবং মেধা দিয়ে এই চ্যালেঞ্জিং ক্ষেত্রটিতে কাজ করে যাচ্ছেন তাতে আমরা আশাবাদী হতে পারি। নিশ্চয় সামনের দিনগুলো হবে সুন্দর, যেখানে থাকবে না কোন ধরণের বৈষম্য। থাকবে না কোন ধরণের নির্যাতন এবং লিঙ্গ সংবেদনশীল কোন সমস্যা! আর্টিকেল ১৯ সেই দিনের অপেক্ষায় রয়েছে।
তাহমিনা রহমান
পরিচালক
আর্টিকেল ১৯,
বাংলাদেশ ও দক্ষিণ এশিয়া

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *