সোমবার, অক্টোবর ২৩, ২০১৭
হোম > বিষয়ভিত্তিক সংবাদ > নারী সাংবাদিকদের সকল বৈষম্যের প্রতি না

নারী সাংবাদিকদের সকল বৈষম্যের প্রতি না

বাংলাদেশের নারী সাংবাদিকদের সুরক্ষা কল্পে ইউকে ভিত্তিক একটি ডাচ সংগঠন  ফ্রি প্রেস আনলিমিটেডের সহযোগীতায় আর্টিকেল ১৯ বাংলাদেশ ও দক্ষিণ এশিয়া একটি নতুন প্রকল্প শুরু করেছে। গত ৭ জুন রাজধানীর মোহম্মদপুরের ওয়াই ডাব্লুসিএ অডিটরিয়ামে ‘রাইটিং রংস এ্যাগেইন্সট উইমেন জার্নালিস্ট’ নামে প্রকল্পটির দুই দিনব্যাপী একটি কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সারা দেশ থেকে আগত প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া, কমিউনিটি রেডিও এবং অনলাইন একটিভিস্টসহ প্রায় ৬০ জন নারী সাংবাদিক অংশগ্রহণ করেন।
উদ্বোধনের দিন প্রথমভাগে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক শাহ আলমগীর, পাক্ষিক অনন্যার সম্পাদক তাসমিমা হোসেন, ম্যাসলাইন মিডিয়া সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক কামরুল হাসান মঞ্জু, বাংলাদেশ নারী সাংবাদিক কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক পারভীন সুলতানা ঝুমা, লেখক ও গবেষক নিশাত জাহান রানা এবং উইমেন চ্যাপ্টারের (অনলাইন পত্রিকা) সম্পাদক সুপ্রীতি ধর প্রমুখ।
বাংলাদেশের নারী সাংবাদিকরা যে লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্য এবং সেন্সরশিপের সন্মুখীন হন তার বিরুদ্ধে আর্টিকেল ১৯ একটা ক্যাম্পেইন চালানোর উদ্যোগ নিয়েছে এ প্রকল্পের মাধ্যমে। এতে অংশগ্রহনকারী সাংবাদিকরা তাদের নানা ধরণের সমস্যা, হয়রানী, নিপীড়ন ও বৈষম্যের কথা তুলে ধরেন। এমনকি এসব সমস্যা সমাধান কল্পে কী ধরণের পদক্ষেপ নেওয়া যায় সে বিষয়ে তারা উপস্থিত রিসোর্স পারসনদের আলোচনার ভিত্তিতে নানা সুপারিশ এবং তাদের অধিকার সংক্রান্ত বিষয়াদিও তুলে ধরেন।

news12
ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে নারী সাংবাদিকদের কর্মজগৎ কীভাবে আরো জেন্ডারবান্ধব হওয়া যায় সে বিষয়েও তারা মত প্রদান করেন। তাদের মত প্রকাশের স্বাধীনতা, আইনগত সুযোগ-সুবিধা, সহকর্মী এবং মালিকপক্ষের কাছে তাদের সম অধিকার ধারণা স্থাপন এবং পেশাজীবি সংগঠনগুলোতে তাদের প্রতিনিধিত্ব ও অংশগ্রহণ নিয়েও বিশদ আলোচনা হয়।
আর্টিকেল ১৯-এর বাংলাদেশ ও  দক্ষিণ এশিয়ার পরিচালক তাহমিনা রহমান বলেন, “নারী সাংবাদিকদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি। আপনারা যাতে কুণ্ঠাহীনভাবে আপনাদের সমস্যা ও অসুবিধার কথা জানাতে পারেন সেজন্য আমরা একত্রিত হয়েছি। শুধু কাজ নয়, কাজের জন্য ভালো পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে এবং নিজেদের অধিকার ও দাবি দাওয়াও আদায় করে নিতে হবে।”
বিডি নিউজ টুয়েন্টিফোর-এর এডিটরিয়াল এ্যসিসট্যান্ট শান্তা মারিয়া বলেন, “আমাদের অধিকার নিশ্চিত করার জন্য আমাদেরকে অবশ্যই একত্রিতভাবে কাজ করতে হবে। এজন্য বিভাগীয়  পর্যায়ে আমাদের নেটওয়ার্ক  এবং সাপোর্ট গ্রুপ গড়ে তুলতে হবে। জাতীয় পর্যায়ে আমাদের একটি সাপোর্ট সেন্টার স্থাপন করতে হবে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যারা সাংবাদিকদের অধিকার ও  নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করেন তাদের সাথে যোগাযোগ রাখা, মিডিয়া হাউসগুলোর সঙ্গে আলোচনা করা এবং একটা শক্তিশালী ওয়েব ভিত্তিক ক্যাম্পেইন চালানোর মাধ্যমে আমরা আমাদের গন্তব্যে (বৈষম্যহীন কর্মপরিবেশ) পৌঁছাতে পারবো।”
এককথায় বলতে গেলে দুইদিনের এই ওয়ার্কশপ ছিল শিক্ষণীয়, প্রাণবন্ত এবং উৎসবমুখর। যাকে নারী সাংবাদিকদের এক ধরনের মিলনমেলাও বলা যেতে পারে। নিজেদের নিয়ে কথা বলার এই সুযোগ পাওয়ায় তাদের অনেকেই ছিলেন অভিভূত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *