সোমবার, অক্টোবর ২৩, ২০১৭
হোম > সম্পাদকীয় > পথ যত কষ্টকর, যত কণ্ঠকময় হোক না কেন একদিন আমরা গন্তব্যে পৌঁছাবো। সে গন্তব্য হবে নারী পুরুষ সমতার ভিত্তিতে একটি মিডিয়া জগত। সবাইকে স্বাগত আমাদের কন্যা সাহসিনীতে।

পথ যত কষ্টকর, যত কণ্ঠকময় হোক না কেন একদিন আমরা গন্তব্যে পৌঁছাবো। সে গন্তব্য হবে নারী পুরুষ সমতার ভিত্তিতে একটি মিডিয়া জগত। সবাইকে স্বাগত আমাদের কন্যা সাহসিনীতে।

কন্যা সাহসিনী। নামের মধ্যে নিহিত রয়েছে কাদের জন্য নিবেদিত আমাদের এই নিউজ লেটার। সেই সব সাহসিকাদের নিয়ে আমরা কথা বলবো যারা প্রচণ্ড প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে একটি মহান পেশায় নিজেদের সম্পৃক্ত করেছেন। যাদের অনেকেই পারিবারিক প্রতিকূলতা সত্ত্বেও এই চ্যালেঞ্জিং পেশাকে গ্রহণ করেছেন। যারা কাজ করতে গিয়ে হোচট খেয়েছেন কর্মস্থল এর অবন্ধুসুলভ পরিবেশের জন্য। অনেক সময় কেউ কেউ সামাজিকভাবে গ্রহণীয় হতে না পেরেও অসম্ভব মনোবল আর নিজের যোগ্যতা ও পরিশ্রমের কারণে এ পেশার একটি দৃঢ় অবস্থানে প্রতিষ্ঠিত হতে পেরেছেন। হ্যাঁ, আমরা সাংবাদিক নারীদের কথা বলছি।

এ কথা সত্য যে, গত ত্রিশ বা দশ বছরের তুলনায় ইদানিং এই ব্যতিক্রমি পেশায় নারীদের সংখ্যা বেড়েছে অনেক। গুণগত মানে নারীদের সাংবাদিকতাও প্রশ্নাতীত। বরং বলা যায়, জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নারী সাংবাদিকরা নানা পুরুস্কারে যেমন ভূষিত হয়েছেন তেমনি অনেক নারী সাংবাদিক প্রমাণ করেছেন তাদের যোগ্যতা এবং পরিশ্রমে কোনো ঘাটতি নেই। কিন্ত এসব স্বীকৃতিও অনেক ক্ষেত্রে তাদের কর্মস্থল-এ পুরুষতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন আনতে পারেনি। আর্টিকেল ১৯-এর একটি জরিপ থেকে জানা যায়, এখনো অনেক মিডিয়া হাউসে নারী সাংবাদিকদের সাংবাদিক হিসেবে গণ্য না করে শুধু নারী হিসেবে বিবেচিত করা হয়।
আর্টিকেল ১৯-এর বৈঠকে এসব বঞ্চিত বা বৈষম্যের শিকার নারী সাংবাদিকরা উজাড় করে দিয়েছেন তাদের দুঃখ আর বঞ্চনার অভিজ্ঞতা। কিন্ত পথ যত বন্ধুর হোক না কেন, থামলে চলবে না। হাল ছাড়বেন না। আর্টিকেল ১৯- কে তারা তাদের পাশে পাবেন। সেটা যেমন কর্মস্থল এর পরিবেশ পরিবর্তনে, তেমনি আইনি সহযোগীতায়। নিদেনপক্ষে অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করার বিষয়েও। সে অভিজ্ঞতা শুধু নেতিবাচক নয়, ইতিবাচকও বটে। এসব বঞ্চনা, সাহসিকতা, প্রতিকূলতা, অর্জন কিংবা নতুন নতুন চ্যালেঞ্জের ক্ষেত্রে এগিয়ে যাবেন আপনারা।

এসব নিয়েই যাত্রা শুরু হল আমাদের, আপনাদের এবং সকল এর নিউজ লেটার  কন্যা সাহসিনী। এ যাত্রায় বাংলাদেশের সব নারী সাংবাদিকরা সহযাত্রী। আসুন আমরা সবাই এক সাথে পথ চলি। সে পথ যত কষ্টকর, যত কণ্ঠকময় হোক না কেন একদিন আমরা গন্তব্যে পৌঁছাবো। সে গন্তব্য হবে নারী পুরুষ সমতার ভিত্তিতে একটি মিডিয়া জগত। সবাইকে স্বাগত আমাদের কন্যা সাহসিনীতে।

তাহমিনা রহমান
পরিচালক
আর্টিকেল ১৯,
বাংলাদেশ ও দক্ষিণ এশিয়া
৩০২ শ্যামলী, ঢাকা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *