সোমবার, অক্টোবর ২৩, ২০১৭
হোম > সফল কাহিনী > বিদ্বেষমূলক প্রচারণা কারো ক্ষেত্রেই কাম্য নয় !

বিদ্বেষমূলক প্রচারণা কারো ক্ষেত্রেই কাম্য নয় !

ফরিদা ইয়াসমিন। জাতীয় প্রেস ক্লাবের ৬২ বছরের ইতিহাসে ব্যবস্থাপনা কমিটির নির্বাচিত হওয়া প্রথম নারী সাধারণ সম্পাদক তিনি। সাংবাদিকতায় নারীর ক্ষমতায়নে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করায় সম্প্রতি তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্পেশাল কংগ্রেশনাল অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন। ফরিদা ইয়াসমিনই প্রথম বাংলাদেশি সাংবাদিক যিনি এই অ্যাওয়ার্ড পেলেন। এই অর্জনের মধ্য দিয়ে তিনি দেশের জন্য সম্মান বয়ে এনেছেন। সম্প্রতি জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে তাকে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রী লাভ করেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের ওকলাহোমা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় নেতৃত্ব বিষয়ক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। লেখাপড়া চলাকালিন তার সাংবাদিকতায় হাতেখড়ি। প্রথমদিকে অধুনালুপ্ত দৈনিক বাংলার বাণী, পরে দৈনিক মুক্তকণ্ঠ ও দৈনিক যুগান্তরে কাজ করেছেন। এছাড়া তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনেরও ভাইস প্রেসিডেন্ট। সম্প্রতি কন্যাসাহসিনীর মুখোমুখি হয়েছেন তিনি। কথা বলেছেন অনলাইনে নারী সাংবাদিকদের হয়রানির বিভিন্ন দিক নিয়ে।

কন্যা সাহসিনীঃ আপনি একজন সফল নারী সাংবাদিক। বর্তমানে বাংলাদেশে সাংবাদিকতায় সার্বিক পরিস্থিতি কিভাবে বিশ্লেষণ করবেন?
ফরিদা ইয়াসমিনঃ বাংলাদেশের নারী সাংবাদিকদের সার্বিক পরিস্থিতি আগের যে কোন সময়ের চেয়ে ভালো সময় পার করছে। নারীরা প্রিন্ট, ইলেক্ট্রনিক, অনলাইন গণমাধ্যমে কাজ করছে। শুধুমাত্র নির্ধারিত কোন শাখায় নয়, রিপোর্টিং, সম্পাদনাসহ অপরাধ সাংবাদিকতার মত ঝুঁকিপূর্ণ বিটে কাজ করে সফলতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে। সুতরাং নারী সাংবাদিকতা এখন আর আগের সেই নির্ধারিত গন্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই।

কন্যা সাহসিনীঃ অনলাইনে নারী ও নারী সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক আচরণের বিষয়টিকে বর্তমান অবস্থার প্রেক্ষিতে কিভাবে দেখছেন?
ফরিদা ইয়াসমিনঃ ফেসবুকে নারী সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক আচরণের বিষয়টি মাঝে মাঝে লক্ষ্য করা যায়। নারী-পুরুষ নির্বিশেষে অনলাইন মাধ্যম ব্যবহারে সাংবাদিকদের আরো সচেতন হতে হবে। বিদ্বেষমূলক আচরণ কারো ক্ষেত্রেই কাম্য নয়।

কন্যা সাহসিনীঃ ইন্টারনেটের এই যুগে নারী ও নারী সাংবাদিকদের হয়রানির ধরন ও কারণ সম্পর্কে আপনার অভিমত কী?
ফরিদা ইয়াসমিনঃ পুরুষতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় নারীদের অধস্তন হিসেবে দেখা হয়। ইন্টারনেটের এই যুগে তথ্য প্রযুক্তির সহজলভ্যতার সুযোগ নিয়ে ইন্টারনেটে হয়রানির সংখ্যা যেমন বেড়ে গেছে ঠিক তেমনি ধরনগুলোও প্রতিনিয়ত পাল্টে যাচ্ছে।  নারী সাংবাদিকরাও এর বাইরে নয়।

কন্যা সাহসিনীঃ অনলাইনে কাজ করতে গিয়ে বিভিন্ন সময় নারীরা সমালোচনা থেকে শুরু করে নানা ধরনের হুমকির শিকার পর্যন্ত হন, এ বিষয়টিকে আপনি কিভাবে দেখছেন?
ফরিদা ইয়াসমিনঃ এটিও আমাদের পুরুষতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থার ফসল। তারা সব সময় নারী কে অধস্তন হিসেবে ভাবে, তাদেরকে দূর্বল মনে করে। যার কারনে নারীদের কাজকে ভিন্নভাবে দেখা হয়। একজন পুরুষের কোন কাজকে স্বাভাবিকভাবে দেখলেও কোন নারী সে কাজটি করলে তার সমালোচলা শুরু হয়।

কন্যা সাহসিনীঃ অনলাইনে নারী ও নারী সাংবাদিকরা হয়রানির শিকার হলেও এজন্য পরবর্তীতে তাদেরকেই দায়ী করা হয়, এ বিষয়ে আপনি কী মনে করেন?
ফরিদা ইয়াসমিনঃ নারী সাংবাদিকরা হয়রানির বা নির্যাতনের শিকার হলে তাদেরকেই দায়ী করা হয়, খুঁজে আনা হয় তার অতীত ইতিহাস। পুরুষের নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির জন্যই এমন হয়। এটি খুবই বাজে একটি চর্চা। আমাদের এ থেকে মুক্ত হতে হবে।

কন্যা সাহসিনীঃ অনলাইনে হয়রানির বিরুদ্ধে আইনি প্রতিকার পেতে নারী ও নারী সাংবাদিকদের করনীয় কি?
ফরিদা ইয়াসমিনঃ সাংবাদিক বিশেষত নারী সাংবাদিকরা অনলাইনে হয়রানির বিরুদ্ধে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনে প্রতিকার পেতে পারে। সরকার চাইলে আমরা এ ব্যাপারে তথ্য প্রযুক্তি বিভাগের সাথে কাজ করব যাতে করে সকল সাংবাদিক বিশেষত নারী সাংবাদিকরা অনলাইনে হয়রানির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি প্রতিকার পেতে পারে।

কন্যা সাহসিনীঃ নারী ও নারী সাংবাদিকদের জন্য অনলাইন ক্ষেত্রকে আরও নিরাপদ ও শঙ্কামুক্ত করতে কী কী ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়?
ফরিদা ইয়াসমিনঃ নারী তথা নারী সাংবাদিকদের আরো বেশি নেতৃত্বের জায়গায় আসতে হবে। গৃহে, সমাজে, কর্মক্ষেত্রে সর্বত্রই অনলাইন ব্যবহার নিরাপদ হওয়া প্রয়োজন। অনলাইন ক্ষেত্রকে নিরাপদ ও শঙ্কামুক্ত করতে বর্তমান সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ আমরা লক্ষ্য করছি।আমি মনে করি সরকারের পাশাপাশি আমাদেরকেও নিজেদের অধিকার তথা দায়িত্ব-কর্তব্য পালনে সচেষ্ট হতে হবে। তবেই নিরাপদ ও শঙ্কামুক্ত অনলাইন ক্ষেত্র তৈরি হবে।

কন্যা সাহসিনীঃ আপনার মূল্যবান সময় দেওয়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।
ফরিদা ইয়াসমিনঃ আপনাকেও ধন্যবাদ।
সাক্ষাৎকার গ্রহনেঃ আফজাল হোসেন লাভলু

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *