শুক্রবার, আগস্ট ১৮, ২০১৭
হোম > প্রধান সংবাদ > সাংবাদিক মেহেরুন রুনি হত্যা তদন্তে স্থবিরতা!

সাংবাদিক মেহেরুন রুনি হত্যা তদন্তে স্থবিরতা!

সাংবাদিক মেহেরুন রুনির হত্যাকান্ড এসময়ের একটি আলোচিত ও অমীমাংসিত ঘটনা। দীর্ঘ পাঁচ বছর পেরিয়ে গেলেও এ হত্যাকান্ডের বিচার প্রক্রিয়া এগুচ্ছে না। তিনি তখন এটিএন বাংলার সিনিয়র রিপোর্টার ছিলেন। এর আগে রুনি চ্যানেল আই, দৈনিক সংবাদ ও যুগান্তর পত্রিকায় রিপোর্টার হিসেবেও কাজ করেছেন। মাঝে ২০১১ সালে স্বামী সাগর সারওয়ারের সঙ্গে জার্মানিতে দেড় বছর প্রবাস জীবন কাটিয়েছেন। এরপর আবারো যোগ দিয়েছিলেন এটিএন বাংলায়। সাংবাদিকতা পেশায় এক যুগের বেশি সময়ের অভিজ্ঞ রুনি ক্রাইম ও জ্বালানি বিটে ছিলেন পরিচিত নাম। বিশেষ করে জ্বালানি বিটে তার প্রতিবেদন দর্শক সমাদৃত।

২০১২ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি মেহেরুন রুনি ও তার স্বামী মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সরওয়ার নিজ বেডরুমে নৃশংসভাবে হত্যার শিকার হন। রেখে যান ৬ বছরের একটি ছেলে। গত পাঁচ বছরে সাংবাদিক হত্যাকান্ডের বেশ কিছু ঘটনার বিচারিক অগ্রগতি হলেও সাংবাদিক সাগর-রুনির হত্যাকান্ডের বিচার প্রক্রিয়া থমকে আছে। আজ পর্যন্ত এ হত্যাকান্ডের মূল হোতাদের চিহ্নিত করা সম্ভব হয় নাই। তাই নারী সাংবাদিকের নিরাপত্তার বিষয়টিও প্রশ্নের মুখে।

গত দুই দশকের ইতিহাসে সাংবাদিক হত্যা বা নির্যাতনের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। এর মধ্যে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই নারী সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে সংঘটিত বিষয়গুলো সামনে আসে না। সাগর-রুনি হত্যার প্রথমদিকে সারা দেশের সাংবাদিক সংগঠনগুলো ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলনে নেমেছিল ঘটনার জোর প্রতিবাদ জানাতে। তবে আমাদের দেশে সংশ্লিষ্ট মিডিয়া হাউজ কেন্দ্রিক তৎপরতা লক্ষ্য করা যায় না।

সাগর-রুনি দম্পতি হত্যার ঘটনায় ঘটনার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে জড়িতদের গ্রেফতারের ঘোষণা দেয়া হয়েছিল। কিন্তু এ মামলায় এখন পর্যন্ত যে আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তারা সকলেই সন্দেহভাজন। দুঃখজনক হলেও সত্য পাঁচ বছরেও আলোর মুখ দেখেনি এ নৃশংস হত্যাকান্ডের তদন্ত প্রতিবেদন। ঘটনার পর রুনির ভাই নওশের আলম রোমান শেরেবাংলা নগর থানায় একটি মামলা করেন। তখন থেকে এ পর্যন্ত মামলার তদন্তের দায়িত্ব পায় বিভিন্ন আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা। হত্যার দিন থেকে নিয়ে বর্তমান পর্যন্ত সময়ে মোট চারটি তদন্তের অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে। প্রথমে ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে, এরপর ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারি ও জুন মাসে এবং সর্বশেষ ২০১৬ সালের অক্টোবরে আদালতে তদন্তের অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। এই হত্যাকান্ডে আদালত এ পর্যন্ত ১৫৭ দিন অধিবেশন চালিয়েছেন এবং ৪৬বার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য সময় দিয়েছেন। সর্বশেষ, আদালত এক আদেশে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য এই বছরের ২১ মার্চ দিন ধার্য করেন।

আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলো আলাদাভাবে তাদের তদন্তের কাজ করলেও হত্যার কারণ বা এর সঙ্গে কারো সম্পৃক্ততার বিষয়টি এখনো অর্নিদিষ্ট রয়ে গেছে। হত্যার কারণ অনেকসময় পেশাগত হয়ে থাকলেও অনেকেই সেগুলোকে ব্যক্তিগত জায়গায় নিয়ে যেতে চান। রুনি ইস্যুতেও এ হত্যার নেপথ্যে তার ব্যক্তিগত জীবন কেমন ছিল প্রভৃতি তুলে সংবাদ পরিবেশন করে বিষয়টিকে হালকা করে দেখার চেষ্টা করা হয়।

নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাত খুনের মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি হওয়ার নজির আমাদের সামনেই রয়েছে। তাই নারী সাংবাদিকদের আরো এগিয়ে যাওয়ার জন্য সাংবাদিক রুনি হত্যাকান্ডের রায় দ্রুত হওয়া জরুরি। ফলে বাংলাদেশের মিডিয়া হাউজগুলোকে নারী সাংবাদিকদের কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা দেওয়ার বিষয়টি আরো গুরুত্ব দিতে হবে।

আঁখি আক্তার
এহতেশাম ইমাম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *