সোমবার, অক্টোবর ২৩, ২০১৭
হোম > প্রধান সংবাদ > সাংবাদিক শামীমা মিতুর প্রবাসজীবন শেষ হবে কবে !

সাংবাদিক শামীমা মিতুর প্রবাসজীবন শেষ হবে কবে !

সাংবাদিকতা সবার জন্যই একটি চ্যালেঞ্জিং পেশা কিন্তুু প্রায়ই দেখা যায় শুধু নারী হওয়ার কারণে নারী সাংবাদিকদের আরো বেশী হয়রানি, হুমকি ও সহিংসতার সম্মুখীন হতে হয়। বর্তমানে নারী সাংবাদিকরা গণমাধ্যমের বিভিন্ন শাখায় হয়রানি ও সহিংসতার শিকার হচ্ছেন, তবে অনলাইনে নারীরা বেশী হয়রানি ও ঝুঁকি মোকাবেলা করেন। এর সবচেয়ে বড় কারণ হলো অনলাইনে হয়রানি, জীবননাশের হুমকি ও নানা ধরনের আক্রমণের ইঙ্গিত খুব সহজেই প্রকাশ করা যায়।

শামীমা মিতু, যিনি নিজের জীবন রক্ষা করতে ২০১৫ সালে বাংলাদেশ ত্যাগ করতে বাধ্য হন। বর্তমানে তিনি সুইডেনের গডল্যান্ড দ্বীপে আশ্রয় নিয়েছেন এবং সেখানকার স্পোর্টস ফেডারেশনে কাজ করছেন। মিতু বাংলাদেশে থাকাকালে দৈনিক সমকালের স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং তিনি মূলত সামাজিক ইস্যুসমূহ বিশেষভাবে শিশু ও নারী বিষয়ক ইস্যু নিয়ে কাজ করতেন। তাছাড়াও একজন ব্লগার হিসেবে তিনি বেশ পরিচিত ছিলেন। তার নিজস্ব ব্লগ যেমন: ‘ইস্টিশন’ ও ‘শামীমা মিতু ব্লগ’ ছাড়াও এর বাইরে বিভিন্ন ব্লগ যেমন: বাংলা ট্রিবিউন এবং উইমেন চ্যাপ্টারেও নিয়মিত লেখালেখি করতেন।

মেয়েদের বিয়ের বয়স ১৮ থেকে ১৬ তে আনার বিষয়ে তিনি তীব্র প্রতিবাদ করেন এবং এ নিয়ে প্রচুর লেখালেখি করেন। যার ফলে তাকে কট্টর ধর্মীয় বিশ্বাসীদের নানা সমালোচনার মুখোমুখি হতে হয়। অন্যদিকে, জনসম্মুখে নারীদের যৌন হয়রানির বিষয়টিও তিনি তার লেখনীর মাধ্যমে সবার কাছে তুলে ধরেন। শামীমা মিতুর ‘আমি আমার শাড়ি কিভাবে পরব, তাতে আপনার কী?’ এই লেখাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে ভাইরাল হয়। ২০১৫ সালের পহেলা বৈশাখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় নারীদের যৌন হয়রানির ঘটনার প্রেক্ষিতে তিনি এটা লিখেন। এই ঘটনায় দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে সকলকে একসাথে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। এই লেখাটি প্রকাশ হওয়ার পর বিভিন্ন মহল, যারা তার লেখার ঘোরবিরোধী ছিলো, তারা আরও ক্ষেপে যায়।

প্রাথমিক পর্যায়ে, মিতু একজন নারী সাংবাদিক হিসেবে ছোট ছোট বিভিন্ন বার্তার মাধ্যমে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া পেতে থাকেন। যতই দিন যেতে থাকে এ ধরনের বার্তা আরো আক্রমণাত্বক হতে থাকে। মিতু বলেন “আমি ঘনঘনই ধর্ষণ এবং জীবননাশের হুমকি পেতে থাকি। কট্টর ধর্মীয় বিশ্বাসীদের কাছ থেকে নানা রকম হুমকি যেমন, ‘মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত হও’, ‘আমি তোমাকে ধর্ষণ করব’ এ ধরনের বার্তায় আমার মোবাইল ফোন এবং ফেসবুকের ইনবক্স ভরে থাকত।” এছাড়াও ঐ সময়কালে হত্যা করা হয় ব্লগার ওয়াসিকুর রহমান বাবু ও নিলয় নীলকে যারা মিতুর বন্ধুর মত ছিলেন। এসব হুমকির ফলে তিনি ঘরবন্দি হতে বাধ্য হন। তাই সবকিছুর পরে তিনি দেশত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন যাতে করে তার লেখা চালিয়ে যেতে পারেন। তবে দেশে ফেরার ব্যাপারে তিনি বলেন, “দেশে কে না ফিরতে চায়। যেহেতু জীবনের ভয়ে পালানো, ভয়টা কেটে গেলে দেশে ফিরব।”

ইন্টারনেট একদিকে যেমন নারীর ক্ষমতায়নে অনবদ্য ভূমিকা রাখছে, অন্যদিকে কেউ কেউ এটাকে সহিংসতা ছড়িয়ে দেয়ার একটা মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করছে। তাই তাদের মধ্যে ডিজিটাল ও প্রযুক্তিগত সচেতনতা বাড়াতে হবে যাতে তারা সাহসের সাথে এ ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে পারে। এছাড়াও যে সকল সাংবাদিক, লেখক ও ব্লগার দেশের বাইরে আছেন তাদেরকেও দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করতে হবে, তবেই দেশের নারী ও নারী সাংবাদিকরা সাহসের সাথে নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় এগিয়ে যেতে অণুপ্রেরণা পাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *