শুক্রবার, আগস্ট ১৮, ২০১৭
হোম > গবেষণা > ৭ ভাগ নারী সাংবাদিক বিনা কারণে চাকুরিচ্যুত এবং পাওনা থেকে বঞ্চিত হন!

৭ ভাগ নারী সাংবাদিক বিনা কারণে চাকুরিচ্যুত এবং পাওনা থেকে বঞ্চিত হন!

বাংলাদেশের নারী সাংবাদিকদের প্রতি বৈষম্য, নির্যাতন এবং লিঙ্গ সংবেদনশীলতার প্রতিকার এবং প্রতিরোধের জন্য আর্টিকেল ১৯ ’রাইটিং রংস এ্যাগেইন্টস উইমেন জার্নালিস্ট’ প্রকল্পটির কাজ শুরু করেছে। এই প্রকল্পের অংশ হিসেবে নারী সাংবাদিকরা তাদের বিভিন্ন সমস্যার কথা আর্টিকেল ১৯-কে জানান। সারাদেশের নারী সাংবাদিকদের মধ্য থেকে আর্টিকেল ১৯-এ মোট ২৯টি অভিযোগ এসেছে। উল্লেখ্য, এর সাথে ২৩টি পুরুষ সাংবাদিকের অভিযোগও পেয়েছি।

আর্টিকেল ১৯ মনিটরিং এবং ট্রাকিং টুল (এনেক্স ক, খ ও গ) ব্যবহার করে এসব অভিযোগ সংগ্রহ এবং এর সহজ সমাধানের বিষয়ে কাজ করেছে। মূলত ফোকাল পয়েন্টদের (বারোজন সাংবাদিক যারা আর্টিকেল ১৯ কর্তৃক নির্বাচিত) মাধ্যমে এসব অভিযোগ সংগ্রহ করা হয়। প্রত্যেক মাসে ফোকাল পয়েন্টরা নারী সাংবাদিকদের ফোন করে জানতে চান তারা কাজ করতে গিয়ে কোনো বৈষম্য, বাধা, বাক স্বাধীনতা কিংবা লিঙ্গ সংবেদনশীলতার সন্মুখীন হয়েছেন কিনা। এতে সারা দেশে নারী সাংবাদিকদের সাথে আর্টিকেল ১৯-এর যেমন একটি ভালো নেটওয়ার্ক গড়ে ওঠেছে তেমনি তারা তাদের সমস্যার কথা জানিয়ে স্বস্তি ও সাহস পেয়েছেন। এসব অভিযোগকে বিষয় ভিত্তিতে নয়টি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। নিচে টেবিলের সাহায্যে এর বিভিন্ন অবস্থা দেখানো হলো :

টেবিল- ১

অভিযোগের ধরণ                        অভিযোগের পরিমাণ (সংখ্যায়) শতকরা হিসাব( %)
বিনা কারণে চাকুরিচ্যুতি
এবং পাওনা না পাওয়া                 ৭টি                   ২৪
বৈষম্য                                       ৬টি                   ২১
প্রেসক্লাব থেকে বহিস্কার               ২টি                   ৭
মানহানি                                    ২টি                   ৭
হুমকি                                        ২টি                   ৭
নির্যাতন                                    ৩টি                   ১০
হয়রানি                                     ৩টি                   ১০
বাক স্বাধীনতা                            ১টি                   ৩
অন্যান্য                                     ৩টি                   ১০
অভিযোগগুলোর ভিত্তিতে অভিযোগকারিদেরকে ছয় ধরণের সহায়তা দেওয়া হয়েছে। ঐ গবেষণায় দেখা যায় নারী সাংবাদিকদের ২৯টি অভিযোগ নিয়ে আর্টিকেল ১৯ আইনি পরামর্শ এবং আর্থিক সহায়তাসহ নানাভাবে কাজ করে। এতে নিন্মলিখিত ইমপ্যাক্টগুলো পাওয়া যায়।

গতিশীলতা বৃদ্ধি: পাওনা না পাওয়ায় জনকন্ঠের পাঁচ নারী সাংবাদিক মামলা করেন এবং তাদের পক্ষে রায় হওয়া সত্ত্বেও তারা তাদের পাওনা আদায় করতে পারেননি। এই পাঁচটি মামলা অনেকটাই স্থবির হয়ে ছিল। আর্টিকেল ১৯-এর কাছে অভিযোগ আসার পর প্যানেল আইনজীবী একেএম নাসিম ঐ মামলাগুলোকে গতিশীল করেছেন। এ বিষয়ে তিনি মামলাগুলোকে অ্যাপিলেট ট্রাইবুনালে ফাইল করেছেন।

উন্নততর আইনি সহায়তা: ঠাকুরগাঁও প্রেসক্লাব থেকে দুইজন নারী সাংবাদিককে (নার্গিস ও বন্যা) বহিস্কার করা হয়েছে। সম্পর্কিত অভিযোগগুলো আর্টিকেল ১৯-এ আসার পর পরিচালক তাহমিনা রহমানের সাথে কথা বলে তারা সাহস ও মনের জোর পেয়েছেন। এ বিষয়ে আর্টিকেল ১৯ সহায়তায় তারা অভিজ্ঞ ও ভালো আইনজীবী নিয়োগ করেছেন।

ইন্টারভেনশনে অপরপক্ষ নমনীয়: ঠাকুরগাঁও প্রেসক্লাব থেকে নারী সাংবাদিকদের বাহিস্কারের বিষয়ে আর্টিকেল ১৯ ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং রিপোর্ট করার বিষয়ে কাজ করছে। এতে ঐ প্রেসক্লাবের সাংবাদিকরা বহিস্কৃতদের সাথে অনেকটাই নমনীয় হয়েছেন।

সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করেছে: দু’টি মামলা নিয়ে (মানহানি ও নারী ও শিশু নির্যাতন) নিয়ে আর্টিকেল ১৯-এর প্যানেল আইনজীবীর সাথে বিস্তারিত আলোচনা করেন। এ আইনি মতামত ভুক্তভোগী সাংবাদিককে সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করেছে বলে তিনি জানান। তিনি আরো জানান, মামলাগুলোর বিষয়ে সেই আসনের জাতীয় সংসদ সদস্যের সাথে কথা বলতে গিয়ে আর্টিকেল ১৯- তার পক্ষে কাজ করছে জানালে তিনিও গুরুত্ব পেয়েছেন। এ বিষয়ে আর্টিকেল ১৯ আইনি প্রক্রিয়ার বাইরেও আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। এতে একটি ইতিবাচক ফলাফল আশা করছেন সংশ্লিষ্ট পক্ষ।

এভাবে নারী সাংবাদিকদের নিয়ে কাজ করতে গিয়ে আর্টিকেল ১৯-কে কিছু বাঁধা ও চ্যালেঞ্জের সন্মুখীন হতে হয়। সেগুলো নিন্মরূপ:

  • অনেক সময় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো সম্পর্কে নারী সাংবাদিকদের কোনো পরিকল্পনা বা ধারণা থাকে না। তারা আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে এর পূর্বশর্তগলো নষ্ট করে ফেলে।
  • শুরুতে তারা আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে আগ্রহী থাকলেও পরে পিছিয়ে যান। তবে এ বিষয়ে আর্টিকেল ১৯-এর উদ্যোগ তাদের খানিকটা সাহসী করে তুলছে।
  • নারী সাংবাদিকরা মেডিক্যাল কাউন্সিলিং নেওয়ার বিষয়ে দ্বিধা ও সংকোচ করেন।
  • অনলাইনেও নারী সাংবাদিকরা হ্যারাজমেন্টের শিকার হচেছন এবং সেক্ষেত্রে তারা প্রমাণপত্র না রাখায় তেমন কিছু করতে পারেন না।
  • অনেক সময় দেখা যায় নারী সাংবাদিকরা উত্তেজিত হয়ে পড়েন। এতে তারা পরে নিজেরাই ভোগান্তিতে পড়েন।
  • অনেক ক্ষেত্রে তারা জনসন্মুখে কিছু ভুল আচরণ করেন। এ বিষয়গুলো সম্পর্কে তারা সজাগ থাকেন না।

 

একটি আর্টিকেল ১৯-এর গবেষণা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *